*
Categories
Menu
monsurl huq khan
ময়মনসিংহ সদরে সুবিধাজনক অবস্থানে খেলাফত মজলিস, টেনশনে আ. লীগ
ফেব্রুয়ারী 25, 2014 দেশের খবর
FacebookTwitterGoogle+Share

monsurl huq khanএমদাদুল্লাহ্, ২৫ ফেব্রুয়ারী: আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহ সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন। এ উপজেলায় ভোটর রযেছেন চার লাখ ৯৬ হাজার ৮৬২ জন। এখন পুরোদমে চলছে প্রচার-প্রচারণা। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ভোটারদের কদর ততই বাড়ছে।
এ উপজেলায় একাধিক প্রার্থী থাকার কারণে টেনশনে রয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। বৃহত দল বিএনপির একক প্রার্থী থাকলেও বিপাকে পড়েছে দলটি শরীক দলের প্রার্থী থাকায়। ১৯ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক খেলাফত মজলিস এখানে প্রার্থী দিয়ে বেশ সুবিধাজনক অবস্থা তৈরি করেছে। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে মাইকিং আর পোস্টারিংয়ে জমে উঠেছে নির্বাচন। পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে পুরো শহর ও উপজেলার হাটবাজার গুলো। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রচারণা এবং জনসংযোগে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা।
ময়মনসিংহ সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে ছয়জন করে প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন চারজন। চেয়ারম্যান পদে জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও কোতোয়ালি থানা বিএনপির সভাপতি, পৌরসভার সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম মো. ওয়ালিদ আনারস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার সাথে হেলিকপ্টার প্রতীক নিয়ে লড়ছেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কমিটির ওলামা বিষয়ক সম্পাদক ও ইত্তেফাকুল উলামা বৃহত্তর ময়মনসিংহের সাধারণ সম্পাদক প্রিন্সিপাল মাওলানা মানসুরুল খান। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন বর্তমান উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও মিন্টু কলেজের সাবেক ভিপি আশরাফ হোসাইন। তার প্রতীক ঘোড়া। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দোয়াত-কলম প্রতীক নিয়ে লড়ছেন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের ছোট ভাই, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও আকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফাজ উদ্দিন সরকার। আওয়ামী লীগের আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা ফয়জুর রহমান ফকির মাঠে রয়েছেন মোটরসাইকেল নিয়ে। জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে কাপ-পিরিচ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মালেক সরকার।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে আছেন বিএনপি সমর্থিত আশরাফুল আলম (উড়োজাহাজ), বিএনপির বিদ্রোহী জাহাঙ্গীর আলম (চশমা), আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী রেজাউল হাসান বাবু (তালা), আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আনোয়ার-উল হক রিপন (মাইক), দ্বীন ইসলাম ফখরুল (বই) ও রফিকুল ইসলাম সিদ্দা (টিউবওয়েল)। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী খালেদা আতিক (কলস), বিএনপির বিদ্রোহী ফরিদা ইয়াসমিন পারভীন (প্রজাপতি), আওয়ামী লীগ সমর্থিত হালিমা খাতুন (পদ্মফুল) ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী জেলা মহিলা পরিষদ নেত্রী সাজেদা বেগম সাজু (ফুটবল)।
এসব প্রার্থীদের মধ্যে কে যোগ্য কে অযোগ্য এ নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে শুরু হয়েছে হিসাব-নিকাশ। রাজনীতি সংংশ্লিষ্ট ভোটাররা দলীয় প্রার্থীকে প্রাধান্য দিলেও সাধারণ ভোটাররা ব্যক্তি হিসেবে যিনি ভালো তাকেই খুঁজছেন। সাধারণ ভোটাররা বলছেন, যে ভালো মানুষ তাকেই ভোট দেবো।
তবে নির্বাচনী এলাকার সার্বিক খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেছে, মূল লড়াইটা হবে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী কামরুল ইসলাম মো. ওয়ালিদ (আনারস) ও খেলাফত মজলিস সমর্থিত প্রার্থী মাওলানা মানসুরুল খানের (হেলিকপ্টার) মাঝে। ময়মনসিংহ সদর আওয়ামী লীগের ঘাটি হিসেবে পরিচিত থাকলেও একাধিক প্রার্থী থাকায় বিএনপি একক প্রর্থী দিয়ে আলোচনায় চলে আসে। তবে বিএনপির মাথা ব্যাঁথার কারণে পরিণিত হয়েছে ১৯ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক খেলাফত মজলিসের প্রার্থী। তিনি একটি দল সমর্থিত প্রার্থী হলেও আলেম-উলামার নগরী হিসেবে খ্যাত ময়মনসিংহের সর্বস্তরের উলামায়ে কেরাম তার পক্ষে মাঠে নেমেছেন। দলমত নির্বিশেষে ইসলাম পন্থী সাধারণ জনগণও তার পাল্লাকে ভারী করে তুলছেন। নাস্তিক-মুরতাদ বিরুধী আন্দোলনে হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইত্তেফাকুল উলামার ব্যানারে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ও বলিষ্ট নেতৃত্বকে সাদরে গ্রহণ করছেন সাধারণ জনতা। এ উপজেলার ভোটাররা মনে করেন, শাপলা চত্বরের জবাব দিতে সিটি নির্বাচনের মতো চমক দেখাবেন তারা ময়মনসিংহেও। মাওলানা মনসুরুল হক খান গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছিলেন। এবার তিনি বিজয়ী হতে চান। তাছাড়া খেলাফত মজলিস ও ইত্তেফাকুল উলামার কেন্দ্রীয় নেতা হওয়ার কারণে ময়মনসিংহের রাজনীতে একটি পরিচিত মুখ মনসুরুল হক খান। বিগত সরকার বিরুধী আন্দোলনে তিনি বলিষ্ট ভূমিকা পালন করেছেন। দীর্ঘ দিনের শিক্ষকতা জীবনের অর্জন তার হাজার হাজার ছাত্র নির্বাচনী মাঠে ভূমিকা পালন করছেন। প্রবীণ এ রাজনীতিবীদ তার চলা-ফেরা ও আচার-ব্যবহারে সর্বস্তরের মানুষকে মুগ্ধ করেছেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি সমাজসেবা মূলক কর্মকান্ডে অংশ নিয়ে অনেক প্রশংসা কুঁড়িয়েছেন। তার কর্মকান্ড জনগণের দুরগোরায় পৌঁচেছে। যার প্রতিদান আজ ভোটের মাধ্যমে দিতে চান জনগণ।
এদিকে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী থাকায় বিপাকে পড়েছেন দলের নেতাকর্মীরা। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি শহরের সিকে ঘোষ রোডের একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আফাজ উদ্দিন সরকার (দোয়াত-কলম) বলেছেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ২০ হাজার টাকা জমা দিয়ে দলের মনোনয়ন ফরম কিনে জমা দিয়েছি। আর কেউ দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেনি বা জমা দেয়নি। দলের অন্য কেউ দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী না হওয়ায় আমিই দল সমর্থিত প্রার্থী। তৃণমূল ভোর্টিংয়ের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে একক প্রার্থী দেয়ার জন্য জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মজিবুর রহমান মিল্কিকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি করা হয়। তিনি আমাকে একমাত্র দলীয় মনোনয়ন ফরম পূরণ করে জমা দেয়ার কথা স্বীকার করেছেন। এখন দেখছি অন্য একজন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা ফয়জুর রহমান ফকির (মোটরসাইকেল) সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ একক প্রার্থী দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তৃণমূল ভোটাভোটির মাধ্যমে প্রার্থী নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত ছিল। এখানে তৃণমূল ভোট ছাড়াই জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মনোনীত করেছেন।

মন্তব্য

Comments are closed
Mobile Version | Desktop Version